প্রথম দিনেই কোটি গ্রাহক পেয়েছে ‘ডিজনি প্লাস’
ডি২৩ সম্মেলনে ডিজনি’র ডিরেক্ট-টু-কনজিউমার বিভাগের প্রেসিডেন্ট কেভিন মায়ের (ডিজনি)
উদ্বোধনী দিনেই রেকর্ড গড়েছে
নেটফ্লিক্স প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইন স্ট্রিমিং সেবা
ডিজনি প্লাস (ডিজনি+)।
প্রথমদিনেই সেবাটির গ্রাহক সংখ্যা এক
কোটি ছাড়িয়েছে। বুধবার
সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত
করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রথম দিনেই এক
কোটির বেশি গ্রাহক পাওয়ার
ঘটনাটি প্রভাবে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার
মূল্যেও। বুধবার
দিন শেষে ডিজনি প্লাসের
শেয়ার মূল্য আগের তুলনায়
বেড়েছে ৭.৩৫ শতাংশ।
এতে
করে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্যে যোগ
হয়েছে আরও ১৩০০ কোটি
মার্কিন ডলার। সবমিলিয়ে
এখন ডিজনি প্লাসের মোট
বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬,৮০০ কোটি ডলারে। ওই
একই দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী সেবা
নেটফ্লিক্সের শেয়ার মূল্য কমেছে
৩.১ শতাংশ।
-- খবর সিএনবিসি’র।
এদিকে, মঙ্গলবার একেবারে
‘ত্রুটিমুক্ত’
সেবা নিয়ে হাজির হতে
পারেনি ডিজনি প্লাস।
‘কারিগরি ত্রুটি’র কারণে অনেক
গ্রাহকই সেবাটিকে নিজেদের ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করতে
পারেননি। তারপরেও
সেবাটির নিবন্ধন পেইজে ছিল গ্রাহকের
ঢল।
এতো গ্রাহকের ভীড়
করার পেছনে অবশ্য কারণও
আছে। বর্তমানে
বাজারের আর দশটি অনলাইন
স্ট্রিমিং সেবার তুলনায় ডিজনি
প্লাসের খরচ সবচেয়ে কম,
অথচ কনটেন্টের সংখ্যা অনেক বেশি।
যেখানে
নেটফ্লিক্সের ‘হাই-ডেফিনেশন’ মানের
স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যানের জন্য গ্রাহককে মাসে
১২ ডলার ৯৯ সেন্ট
গুণতে হচ্ছে, সেখানে প্রায়
একই প্যাকেজের জন্য ডিজনি প্লাস
প্ল্যাটফর্মে গ্রাহককে খরচ করতে হবে
৬ ডলার ৯৯ সেন্ট,
যা হিসেবে নেটফ্লিক্স মাসিক
খরচের প্রায় অর্ধেক।
তবে স্বল্প কিছু
দিক থেকে বিচার করলে,
নেটফ্লিক্সের চেয়ে খানিকটা পিছিয়েই
রয়েছে ডিজনি প্লাস।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে
পারে, ‘ট্রায়াল পিরিয়ডের’
কথা। গ্রাহককে
যেখানে নেটিফ্লক্স ৩০ দিনের ‘ট্রায়াল
পিরিয়ড’
দিচ্ছে, সেখানে ডিজনি প্লাস
দিচ্ছে মাত্র ৭ দিন।
আবার সেবার ব্যপ্তিতেও
এগিয়ে রয়েছে নেটফ্লিক্স।
বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে রয়েছে
নেটফ্লিক্স গ্রাহক। সেখানে
আপাতত ৩টি দেশে নিজেদের
সেবা নিয়ে এসেছে ডিজনি
প্লাস, ২০২০ সালের মার্চ
নাগাদ ১২টি দেশে হাজির
হওয়ার কথা রয়েছে স্ট্রিমিং
সেবাটির।
তবে, একদিনে আজকের
স্থানে পৌঁছায়নি নেটফ্লিক্স। সে
হিসেবে ডিজনি প্লাসের শুরুটা
হয়েছে চমৎকার। বর্তমানে
নেটফ্লিক্সের গ্রাহক সংখ্যা ১৫
কোটিরও বেশি। এর
মধ্যে ৬ কোটিরও বেশি
গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রের এবং বহিঃবিশ্বের গ্রাহক
সংখ্যা ৯ কোটি ৭০
লাখ। আর
ডিজনি মালিকানাধীন স্ট্রিমিং সেবা ‘হুলু’র
গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি
৮০ লাখেরও বেশি।
ডিজনি প্লাসের শুরুটা
দেখে বলা যায়, দ্রুতই
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ কমিয়ে
আনবে প্রতিষ্ঠানটি। এক
কোটিরও বেশি গ্রাহক প্রশ্নে
এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য জানায়নি
ডিজনি প্লাস।
