নাম বনমোরগ সুন্দর বনের পাখি
![]() |
| Image Source : Internet |
এদের মাথায় চমৎকার খাঁজকাটা ফুল। গলার নিচের থলতলে চামড়া, চোখের চারপাশ, বোজানো অবস্থায় ডানা, যেখানে লেজের গোড়ায় শেষ হয়েছে সেখানটাসহ পিঠের কিছু অংশের রং সোনালি-লাল
বা সোনালি হলুদ। কান সাদাটে।
ঠোঁট থেকে চোখের নিচ দিয়ে চওড়া কালচে-কমলা টান কানের গোড়ায় এসে মিশেছে। মাথার পেছন দিকের চমৎকার পেলব পালকগুলোর রং হলুদাভ-সোনালি।
ঘাড়-গলার বাহারি পালকের রং একই রকম।
পিঠ-বুক কালো। পায়ের রং ঘন বাদামি।
নখ ছুরির মতো ধারালো। এদের লেজের গড়ন আরও সুন্দর।
![]() |
| Image Source : Internet |
মুরগিবনমোরগের ইংরেজি নাম জবফ ঔঁহমষব ঋড়ষি। বৈজ্ঞানিক নাম এধষষঁং এধষষঁং। শরীরের মাপ ৬০-৭০ সেন্টিমিটার।
মুরগির মাপ ৪০-৫০ সেন্টিমিটার।
এদের গড়ন পোষা মোরগের চেয়ে একটু লম্বাটে। এই বনমোর-মুরগি
হলো পৃথিবীর সব ধরনের পোষা
মোরগ-মুরগির আদি বাবা-মা। বাংলাদেশের সুন্দরবন ও পাহাড়ি সব
বনে এদের দেখা যায়।
এদের খাদ্যতালিকায় আছে কচি ঘাস-পাতার ডগা, যে কোনো ধরনের
শস্যদানা, পোকা-পতঙ্গ, ছোট মাছ ও ব্যাঙ, নির্বিষ
ও বিষধর ছোট সাপ, কেঁচো, ছোট কাঁকড়া, অঞ্জন, টিকটিকি, কাঁচা মরিচ, কচি বেগুন ইত্যাদি।
বনমোরগসুন্দরবনে এরা বাসা বানায় ঘাস, শুকনো কেয়া পাতা, গোলপাতা দিয়ে। দলবেঁধে চলাফেরা করে। এদের শিকার করা খুবই কঠিন। অত্যন্ত চালাক এবং বুদ্ধিমান এরা। মাটিতে বুক-পেট ঠেকিয়ে ঝোপঝাড়ের তলায় বা গাছের আড়ালে
আত্মগোপন করতে ওস্তাদ। যেন ভালো দৌড়াতে পারে তেমন পারে উড়তে।
বাচ্চাসহ মুরগিকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
১. বনমুরগির বাচ্চা
ধরে পোষ মানানো যায় না। কিছুই খায় না। সুযোগ পেলেই পালায়।
২. পোষা মুরগির
মতো বনমুরগিও বাসা করার পর ডিম পাড়ে।
ডিম পাড়ার আগে ডাকাডাকি করে, একাই ডিমে তা দেয়। তা
দেওয়ার সময় মুরগির শরীর ফুলে থাকে, মেজাজ থাকে খারাপ।
৩. বিপদ দেখলে
সংকেত দিতে এরা ওস্তাদ। খুব ভোর, নির্জন দুপুর আর সন্ধ্যায় ডাকাডাকি
করে। রাত কাটায় বাঁশঝাড় বা গাছের ডালে।
৪. তিন-চার
দিনে এরা বাসা সাজায়। প্রতিদিন একটি করে ডিম পাড়ে। মোট পাড়ে ৫-৬টি ডিম।
১৯-২০ দিনে বাচ্চা
ফোটে। সব বাচ্চা ফুটলে
বাসা ছেড়ে দেয়, আর ফেরে না।


