জেনে নিন টমেটোর ৮ টি গুণ
![]() |
| Tomato |
এখন বাজারে প্রচুর কাঁচা টমেটো পাওয়া যায়। এটি সবজি ও সালাদ হিসেবে
বেশি ব্যবহার করা হয়। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ২-৩টা করে
টমেটো খায় তাহলে অনেক উপকার পাবে। এবার জেনে নিন কাঁচা টমেটোর ৮টি গুণ।
হাড় শক্ত হয়: ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে টমেটোর কোনো বিকল্প হয় না বললেই
চলে। তাই তো বুড়ো বয়সে
অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এখন থেকেই টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।
ধূমপান থেকে বাঁচায়: টমেটোয় রয়েছে কিউমেরিক এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা কার্সিনোজের প্রভাব
থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
ফলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। তাই যারা একান্তই ধূমপান ছাড়তে পারছেন না, তারা দয়া করে দিনে ২-৩ টা
কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর: কখনও খাবারের সঙ্গে তো কখনো অন্যভাবে
আমাদের শরীরে টক্সিক উপাদানের প্রবেশ ঘটে। এই ক্ষতিকারক উপাদানগুলো
যাতে শরীরের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে
খেয়াল রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
সেই সঙ্গে একাধিক রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। টমেটো যেহেতু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক চিকিৎসক।
ক্যান্সার-বিরোধী: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল এবং স্টমাক ক্যান্সাররোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে লাইকোপেন হল একটি প্রাকৃতিক
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষের বিভাজন
ঠিকমতো হতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেয়ার আশঙ্কা কমে।
আর যদি একবার
ক্যান্সার কোষ জন্ম নিয়েও নেয়, তাহলেও যাতে তার বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে না হয়, সেদিকে
টমেটো খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ
শরীরকে ক্ষয় করার সুযোগ পায় না।
![]() |
| Tomato |
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: টমেটোয় আছে লাইকোপেন নামে একটি উপাদান। যা ত্বকের সৌন্দর্য
বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আরেকভাবেও
এই সবজিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। ১০-১২টা টমেটো
নিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে নিন।
তারপর টমেটোর স্কিনটা খুলে সারা মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পরে
ভালো করে মুখটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে কয়েকবার এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন বলিরেখা কমতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: টমেটোয় উপস্থিত ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম,
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
প্রসঙ্গত, যাদের পরিবারে হাই কোলেস্টেরল এবং ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা আজ থেকেই কাঁচা
টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন আয়ু বাড়বেই বাড়বে।
চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন-এ-এর কোনো
বিকল্প হয় না বললেই
চলে। আর এই উপাদানটি
প্রচুর মাত্রায় রয়েছে টমেটোতে।
তাই দীর্ঘদিন যদি চুলকে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে কী করণীয়, তা
নিশ্চয় আর আলাদা করে
বলে দিতে হবে না। প্রসঙ্গত, দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও ভিটামিন-এ বিশেষ ভূমিকা
পালন করে থাকে।
কিডনিতে পাথরের আশঙ্কা কমায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বীজ সমেত টমেটো খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।



