পৃথিবীতে সবাই জিনিয়াস! মোড়াল অব দ্য স্টোরি
![]() |
| আব্রাহাম লিংকন |
তার মুখের আকৃতি বড় ছিল, বাবা ছিলেন
মুচি। এই ব্যাক্তিটি একসময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি - আব্রাহাম লিংকন।
একজন কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদীর কথা জানি যার
কয়েদি নাম্বার ৪৬৬৬৪। বর্ণবাদ বৈষম্য প্রতিবাদী এই লোকটি ২৭ বছর জেলে থাকার পরেও শান্তিতে
নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন।
- তার নাম "নেলসন মেন্ডেলা"
মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া আরেকটি
ছেলে, তাঁকে বলা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল ড্রপ আউট। স্যাট পরীক্ষায়
১৬০০ নম্বরে ১৫৯০ পেয়েও তিনি কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির নেশায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে নাম কাটান। ড্রপ আউট হওয়ার ৩২ বছর পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে
সমাবর্তন বক্তৃতা দেয়া এই মানুষটির নাম - "বিল গেটস"।
![]() |
| বিল গেটস |
মাত্র ১১ বছর বয়সে এতিম হওয়া, ১২ বছর
বয়সে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং হতাশ হয়ে ১৯ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল যে যুবকটি,
সে অনেক বিখ্যাত বইয়ের লেখক। তার মধ্যে “আমার বিশ্ববিদ্যালয়” একটি, যদিও তিনি কোন দিন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়াশুনা করার সুযোগ পাননি - তিনি বিখ্যাত লেখক, নাট্যকার, রাজনীতিবিদ "মাক্সিম
গোর্কি"।
বাবার মুদি দোকানে কাজ করতো। অভাবের
তাড়নায় স্কুল নাগাদ পড়েই সে থেমে গিয়েছিলো। সেই ব্যাক্তিই একসময় হয়ে উঠে বড় এক বিপ্লবী
নেতা। তিনি চীনের প্রতিষ্ঠাতা - "মাও সেতুং"।
আরেক যুবক জীবিকার তাগিদে কুলিগিরি
করতো। বাসে কন্ডাক্টরের কাজের জন্য গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। যে যুবকটি
অংকে পারদর্শী নয় বলে বাসের কন্ডাক্টর হতে পারেনি, পরবর্তীতে সে-ই হয় ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী
ও প্রধানমন্ত্রী। তার নাম - "জন মেজর"।
দরিদ্রসীমায় বসবাস করা ছেলেটির বাবা-মা
এতই গরিব ছিলো যে, তার জন্মের পর নাম রেজিস্ট্রি করতেই ২ দিন দেরি হয়। সে-ই আজকের
জীবন্ত ফুটবল কিংবদন্তী! - "রোনাল্ডো"
বাবা পেশায় জেলে। ছেলেকে সাথে করে মাছ
ধরতো কারন, অন্য স্বাভাবিক আর ১০ জন থেকে তিনি পানির নিচে মাছকে খুব ভাল ভাবে দেখতে
পেতেন।
- সেই জেলের ছেলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট
সুপারস্টার "জয়সুরিয়া"
ছেলেটি খর্ব স্মৃতিশক্তি আর পড়ালেখায়
ছিল মারাত্মক দুর্বল। কোন কিছু মনে থাকত না। ক্লাস এর শেষ বেঞ্চে বসে থাকতো। ফেল করেছেন
বারবার। ক্লার্ক এর চাকরিও করছেন তিনি। পুরো পৃথিবীকে অবাক করেছেন তিনি তার থিউরি অফ
রিলিটিবিটি দিয়ে। নোবেল ও জিতেছেন তিনি। সে শতাব্দীর সেরা বুদ্ধিমান - "আলবার্ট
আইনস্টাইন"
ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র, স্কুল
থেকে বহিস্কৃত হওয়া পৃথিবী আলোকিত করা মানুষটি কে জানেন? তিনি - "টমাস আলভা এডিসন"।
শব্দ উল্টা লিখতেন তিনি, পড়ালেখায় বলতে
গেলে একদম গোবর গনেশ। উড়োজাহাজ আবিস্কারের ৪০০ বছর আগে তিনি উড়োজাহাজের মডেল এঁকে গেছেন।
সেই ব্যাক্তিটি হচ্ছেন - "লিওনার্ড
দ্য ভিঞ্ছি"।
পরীক্ষাতে সবসময় ফেল। যার কোনো কৃয়েটিভিটি
ছিলনা। জীবদ্দশায় ২২ টা একাডেমিক পুরষ্কার জিতেছেন। মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক এর জন্মদাতা।
মিকি মাউসের গলার স্বর তার নিজের দেওয়া।
- তিনি "ওয়াল্ট ডিসনি"।
শব্দের খেলা তার বোঝার সামর্থ ছিলনা,
7 নাম্বার কে বলতেন উল্টা নাক! এই স্প্যানিশ ভদ্রলোক একজন কবি, লেখক, পেইন্টার, কেমিস্ট,
স্টেজ ডিজাইনার, ভাস্কর। তিনি - "পাবলো পিকাসো"।
![]() |
| স্টিভ জবস |
পিতৃপরিচয়হীন এক যুবকের
নিজের কোনো রুম ছিল না, ফ্রেন্ডদের রুমে ফ্লোরে ঘুমাতেন। ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরৎ দিয়ে ০৫ সেন্ট করে রোজগার করতেন এবং সেই টাকা দিয়ে খাবার কিনতেন। এখানেই শেষ নয়; শুধু একবেলা ভালো খাবারের জন্য প্রতি রবিবার রাতে তিনি ০৭ মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতেন। এই ব্যাক্তিটি - অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও- "স্টিভ জবস"।
মোড়াল অব দ্য স্টোরি-
পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই ইউনিক, যার
ভাবনাগুলি তার মতোই। অন্যরা যা পারে, আমাকেও তা-ই পারতে হবে, এমন কোনো সংবিধান নেই।
শুধু একাডেমিক শিক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রমান
করতে হবে কেন? সমস্যাটা এখানেই। আমাদের প্রত্যেক ঘরে ঘরে সোনা র অধিকারি চাই। ক্লাস
ফাইভ থেকে শুরু হয় রাজহংসীর মতো স্বর্নের ডিম পারার প্রক্রিয়া।
পিএসসি তে সোনা, জেএসসিতে
সোনা, এসএসসি তে সোনা, এইচএসসি তে সোনা। এ যেনো এক সোনার রাজ্য। সমাজ এমন চোখে দেখে
যেনো আমি সোনা প্লাস (জিপিএ গোল্ডেন এ+) না দিতে পারলে স্টুডেন্ট ই না!! লালন শাহ্
মাধ্যমিক পড়েছে কিনা জানিনা; আজ তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা হয়।
সবাইকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার,
ম্যাজিস্ট্রেট হতেই হবে! এখন নতুন ট্রেন্ড- ক্যাডার। তুমি বিসিএস ক্যাডার নও,
অতএব বিয়ের বাজারে ভালো পাত্র নও। এসব আসে কোথাথেকে? আঙ্গুলকে টেনে লম্বা করতেই হবে,
যে ভাবেই হোক!!
দরকার হলে আঙ্গুল ভেঙ্গে যাক!!! একটা
কথা মনে রাখ
*পৃথিবীতে সবাই জিনিয়াস! করার ক্ষমতা
শেষ হয়ে যায়নি। হতাশ হতে নেই। অনেকে বলেন- ভাঙবো তো মচকাবো না। আরেহ্,,, এমন ভাবলে
আপনি হেরে যাবেন। ভাঙলে তো ভেঙ্গেই গেলেন, জয়ী হতে পারলেন না। দৃঢ়তা আর মনোবল হওয়া
উচিৎ- "মচকাবো তো ভাঙব না"


