রোজকার ভুল: কিছু ধারণা ও বাস্তবতা

টক ফল বাতের প্রদাহ বাড়ায়-
টকজাতীয় ফলে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে টকজাতীয় ফলমূল খেলে বাতের সমস্যা হয়। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল।
বরং লেবু, পেয়ারা, কমলা, জাম্বুরা, করমচা, আমড়া, জলপাই ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে বলে এসব ফল অস্টিও আর্থ্রাইটিসের জন্য বেশ উপকারী। দেহকোষের সুরক্ষা, হাড়ের ক্ষয়, মজ্জা সংরক্ষণ ও ভঙ্গুর হওয়ার প্রবণতা কমাতে ভিটামিন ‘সি’ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী মেনোপজের পর টকজাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করেন, তাঁদের হাড় অন্যদের তুলনায় বেশ মজবুত থাকে।

রাতে দুগ্ধজাতীয় খাবার নয়-
দুগ্ধজাতীয় খাবার, বিশেষ করে দুধ, দই ও পনিরে যথেষ্ট পরিমাণে খনিজ লবণ, ভিটামিন ও আমিষ রয়েছে, যা মানবদেহে হাড়ের গঠন ও ঘনত্ব ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অনেকে মনে করেন, রাতে দুগ্ধজাত খাবার খেলে বাত বেড়ে যাবে। কিন্তু দেখা গেছে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ফলে হাড়ের ক্ষয় এবং সন্ধিস্থলের কার্টিলেজ ভেঙে যায়। দুধের ভিটামিন ও আমিষ হাড়ের মধ্যে খনিজ লবণ জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়ামের হ্রাস রোধ করে। সুতরাং দুগ্ধজাতীয় খাবার হাড়ের ক্ষয় রোধের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।

গাঢ় রঙের শাকসবজি বাতের জন্য ভালো নয়-
টমেটো, আলু, বেগুন ও মরিচে ‘সোলানাইন’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। আগে মনে করা হতো, এই উপাদান অস্থির বাত সৃষ্টির জন্য দায়ী। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা।