আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামীগই !
![]() |
| Bangladesh Awami League Logo |
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
নির্বাচনে কাউন্সিলর পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগই। নির্বাচনী
মাঠ দখলে দলটির সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা সম্মান এবং অস্তিত্বের খেলায়
মেতে উঠেছেন।
ওই দুই সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রার্থীদের
প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রার্থী হলেও নির্বাচন মুহুর্তে দলটির বিদ্রোহীরাই
প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ঢাকা উত্তর সিটির ৩৫ জন এবং দক্ষিণ
সিটির ৪২ জন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী দাপটের সঙ্গে ভোটের মাঠ দাপিয়ে
বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, আসন্ন ওই নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিপক্ষে
বিদ্রোহীদের মাঠে রেখে ইন্ধন দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী
কিছু নেতা।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন
ওয়ার্ড ঘুরে এবং দলটির সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, অনেক ওয়ার্ডে
নানান চাপে দলসমর্থিত প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে কোণঠাসা। কেন্দ্রীয় নেতাদের
কাছে সমাধান না পেয়ে চাপা ক্ষোভ ও হতাশায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছেন
কেউ কেউ।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে নানা
পদক্ষেপ নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী প্রার্থী দমন ও ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী প্রচারে
গঠন করা হয় দুই সিটির জন্য দুটি সমন্বয় কমিটি। বিদ্রোহীদের নিয়ে কমিটির শীর্ষ নেতাদের
একাধিক বৈঠক ও কঠোর হুশিয়ারি দেয়ার পরও আসেনি তেমন কোনো কার্যকর ফল।
দলসমর্থিত প্রার্থীদের অভিযোগ- নিজেদের রাজনৈতিক
বলয় জিঁইয়ে রাখতে দলসমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে একরকম যুদ্ধই ঘোষণা করেছেন ঢাকার কিছু
এমপি ও প্রভাবশালী নেতা। তারা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চোখ রাঙিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের
পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফলে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ
নেতা এমপি ও প্রভাবশালীদের ভয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সাহস পাচ্ছেন না। উল্টো
কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রভাবশালীদের নির্দেশে বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন স্থানীয়
নেতাকর্মীরা।
![]() |
| Bangladesh north and south City Corporation |
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে
বিদ্রোহী প্রার্থী মামুন রশিদ শুভ্র। প্রথমে দলের সমর্থন পেলেও পরে পরিবর্তন করে বর্তমান
কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদারকে দেয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, নগর
আওয়ামী লীগের শীর্ষ একজন ও কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশেই নির্বাচনী মাঠে
আছেন শুভ্র।
তবে এবিষয়ে শুভ্র বলেন, নির্বাচনী মাঠ
থেকে সদে দাঁড়াতে কেন্দ্র থেকে লিখিত চিঠি দিলে তিনি দলের প্রতি সম্মান রেখে নির্বাচনী
মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিবেন। প্রথমে তাকে দল সমর্থন দেয়। পরে প্রার্থী পরিবর্তন হলে
ওয়ার্ডটিতে উন্মুক্ত নির্বাচনের ঘোষণা আসে বলেও জানান শুভ্র।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের ওলি-গলিতে
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এলাকায় গণসংযোগে ও আধিপত্যও
তাদের। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য নেতাদের সহযোগীতা
আশীর্বাদে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা
জানান।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম
সদস্য আবদুর রহমান বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন করছেন তারা আর দলের
পরিচয় দিতে পারবেন না। আর তাদের যারা ইন্ধনদাতা তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। আওয়ামী লীগের
পরবর্তী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে। আশা করি তাদের বিষয়ে
কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

